জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব ও ডাক টিকিট প্রদর্শনী
Oct 11, 2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব ও ডাক টিকিট প্রদর্শনী  

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১১ অক্টোবর ২০২৬

 

তরুণ প্রজন্মের কাছে চিঠি লেখার ঐতিহ্য ও ডাক বিভাগের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরা, ডাকটিকিটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করা এবং ডাকসেবার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে আজ এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এ উৎসব ও প্রদর্শনীতে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) মো: জাকির হাসান নূর, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) খান হাসান মোহাম্মদ ইকবাল মাসুদ, মেট্রোপলিটন সার্কেলের পোস্টমাস্টার জেনারেল মৌসুমী রহমান, অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল শরীফ লতীফ, ঢাকা জেনারেল পোস্ট অফিসের (ঢাকা জিপিও) সিনিয়র পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ঢাকা বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল আতিয়া সুলতানা, ঢাকা নগরী উত্তর বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, মেট্রোপলিটন সার্কেলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো: মোরশেদ আলম, ডাক অধিদপ্তরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল সঞ্জিত চন্দ্র পন্ডিত, আরএমএস-ভি বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো: সাহেদুজ্জামান সরকার

, কেন্দ্রীয় সার্কেলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল কাজী ইসমত জেরীন, বৈদেশিক ডাক, ঢাকা'র ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল শাহনাজ সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

আয়োজকরা জানান, চিঠি উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য হলো ডিজিটাল যোগাযোগের এই যুগে চিঠি লেখার আবেগ, আন্তরিকতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। একসময় ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ, পারিবারিক যোগাযোগ, সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে যোগাযোগের মাধ্যম বদলে গেলেও চিঠির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি, অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক মূল্য আজও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ডাকটিকিট প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, ঐতিহাসিক ঘটনা ও জাতীয় অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডাকটিকিট কেবল ডাকমাশুল পরিশোধের মাধ্যম নয়; এটি একটি দেশের ইতিহাস, পরিচয়, শিল্পবোধ ও জাতীয় স্মৃতির ক্ষুদ্র অথচ গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সময়ের পরিক্রমায় প্রকাশিত ডাকটিকিটগুলো একটি দেশের ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সাক্ষ্য বহন করে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে এসব বিষয় সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডাকটিকিট সংগ্রহ ও ফিলাটেলি চর্চায় উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হয়।

 

বিশ্ব ডাক দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে এ ধরনের আয়োজন ডাক বিভাগের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক প্রজন্মের সঙ্গে তার নিবিড় সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে ডাকসেবার ধরন ও পরিধি বিস্তৃত হলেও মানুষের কাছে পৌঁছানোর মৌলিক অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে। চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনীর মতো উদ্যোগ সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে অর্থবহভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি ডাক বিভাগের ইতিহাস, বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। 

 

আয়োজকরা আরো বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাকসেবার আধুনিকায়ন যেমন জরুরি, তেমনি ডাক বিভাগের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি উদ্যোগ, যা তরুণ প্রজন্মকে চিঠির মানবিক আবেদন, ডাকটিকিটের ঐতিহাসিক মূল্য এবং জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে অনুপ্রাণিত করবে।

 

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, পিএইচডি

পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)

Recent Press Releases